স্বামীর মৃত্যু থেকে শুরু করে জৈব সার কারখানা ও এগ্রো ফার্ম—অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে বদলে দেওয়া এক নারীর জীবনগাঁথা
রাজশাহীর সফল নারী উদ্যোক্তা হাসিনা ইয়াসমিন: হাসিনা এগ্রো ফার্ম ও জৈব সার কারখানায় কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্ত
- আপডেট সময় : ০৫:১৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী শহরের কাশিয়াডাঙ্গা মোড় সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে সফল নারী উদ্যোক্তা হাসিনা ইয়াসমিনের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান “হাসিনা এগ্রো ফার্ম ও নার্সারী”। জীবনসংগ্রাম থেকে উঠে এসে জৈব সার উৎপাদন, নার্সারি ও পোলট্রি খামারে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয় হাসিনা ইয়াসমিনের। স্বামী বেকার থাকায় অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছিল সংসার। এরই মধ্যে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। কিন্তু হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে জীবনের সবকিছু যেন অন্ধকার হয়ে যায়। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দমে যাননি তিনি।
হাতের কাজ করে শুরু করেন জীবনযুদ্ধ। পরে একটি তৈরি পোশাকের শোরুম চালু করেন, যা অল্প সময়েই সফলতা পায়। কন্যা সন্তান বড় হওয়ার পাশাপাশি একটি স্কুলে চাকরিও পান তিনি। নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে বগুড়া থেকে জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। এরপর প্রতিষ্ঠা করেন নার্সারি ব্যবসা।
কিছু অসাধু চক্রের কারণে স্কুলের চাকরি হারালেও থেমে থাকেননি এই দৃঢ়চেতা নারী। মেয়ের বিয়ের পর মেয়ের জামাইকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন জৈব সার কারখানা। ড্রাইকো ভার্মা সমৃদ্ধ জৈব সার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। কৃষকদের মাঝে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় এই জৈব সারের।
বর্তমানে “হাসিনা এগ্রো ফার্ম ও নার্সারী” এলাকায় কর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস। আশেপাশের অসহায় নারী-পুরুষ এখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরাও তার জৈব সার প্রকল্প পরিদর্শনে আসছেন।
সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও থেমে নেই হাসিনা ইয়াসমিন। সম্প্রতি তিনি পোলট্রি খামার চালু করেছেন। মুরগি ও হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। দূর-দূরান্তের কৃষকরা তার উৎপাদিত জৈব সার সংগ্রহ করছেন এবং নার্সারি থেকে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা কিনছেন।
অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে রাজশাহীতে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হাসিনা ইয়াসমিন।




























