আরডিএ সমঝোতা অনুযায়ী ২৬.৩৩ লাখ টাকার মধ্যে বকেয়া ১০.৮৩ লাখ পরিশোধ নিয়ে বিরোধ
রাজশাহীতে ক্ষতিপূরণ দাবি করায় ‘চাঁদাবাজ’ অপপ্রচারের অভিযোগ, হোটেল মালিকের সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী | ১৫ মে ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণকে ঘিরে পাশের একটি আবাসিক হোটেলের ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ দাবিকে কেন্দ্র করে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হোটেল হক’স ইন–এর স্বত্বাধিকারী এনাজুল হক অমি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৪টায় বরেন্দ্র প্রেসক্লাব–এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অমি অভিযোগ করেন, তাঁর পিতা মৃত এনামুল হকের মালিকানাধীন হোটেলের পাশেই জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ লিমিটেড ২১ তলা ভবন নির্মাণ করছে। যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণকাজ চলায় হোটেল ভবনে ফাটল ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়।
তিনি জানান, এ বিষয়ে ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এ অভিযোগ করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী হোটেলের সংস্কার ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অমির দাবি, নির্ধারিত টাকার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ১০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করা হচ্ছে না। গত ১৩ মে ভবন কর্তৃপক্ষ পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে তিনি পাওনা টাকা দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তুহিন এবং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অমি বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। ন্যায্য পাওনা টাকা চাওয়ায় আমাকে ‘চাঁদাবাজ’ সাজিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। ‘অপহরণের নাটক’ সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন ক্ষতি, রাস্তা ভাঙন এবং হোটেলের অবকাঠামোগত ক্ষতির বিষয়েও আরডিএকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও বকেয়া টাকা উদ্ধারের দাবিতে তিনি বোয়ালিয়া মডেল থানা–এ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ–এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তুহিন বলেন, অমি আরডিএতে অভিযোগ দিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছিলেন, সে কারণেই তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে। কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “একটি সমঝোতা হয়েছিল, তাই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
প্রতিষ্ঠানটির আরেক পার্টনার আব্দুল সালাম তুহিন বলেন, ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা দেওয়ার একটি চুক্তি ছিল। আংশিক পরিশোধের পর বাকি টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনাজুল হক অমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, জানমালের নিরাপত্তা এবং তার সম্মানহানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।





















