নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আইনের কঠোর প্রয়োগেই কমতে পারে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ
ধর্ষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই: নৈতিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতায় বাড়ছে অপরাধ
- আপডেট সময় : ০৪:১২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, নৈতিক অবক্ষয়, ধর্মীয় মূল্যবোধের ঘাটতি এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় দেশে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমান সমাজে ধর্ষণ এক মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। শিশু ও কিশোরী থেকে শুরু করে নারীরা প্রতিনিয়ত এ অপরাধের শিকার হচ্ছেন। গণমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে একের পর এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রতি মাসেই একাধিক ধর্ষণের অভিযোগ প্রকাশ পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।
লেখক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রায় ১৪ শত বছর পূর্বে আরবের আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে নারীদের প্রতি অবিচার, কন্যা সন্তান হত্যা এবং দাসী প্রথা প্রচলিত ছিল। সেই অন্ধকার যুগ থেকে মানুষকে আলোর পথে নিয়ে আসেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, সমাজে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা কমে যাওয়ায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং নিজস্ব মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষাই সমাজকে সুস্থ পথে পরিচালিত করতে পারে।
বর্তমানে দেশে ধর্ষণের ঘটনার বিচার ও শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে শুধু কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। মানববন্ধন, স্টিকার, ফেস্টুন, আলোচনা সভা ও সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র, প্রশাসন, পরিবার ও সমাজ—সবাইকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করলেই ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
মোহাম্মদ আলী—লেখক ও জ্ঞানপিপাসু, মাস্টার্স (হাদীস) অধ্যয়নরত, অধীনস্থ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।






















