চট্টগ্রাম ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail1.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আজিজুল, সম্পাদক কালিমুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল খান ভোলার মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন—দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে হরিরামপুর পাটগ্রামচরে চরবাসীর মানববন্ধন, নদীভাঙনে ফসল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা রাজশাহীতে ক্ষতিপূরণ দাবি করায় ‘চাঁদাবাজ’ অপপ্রচারের অভিযোগ, হোটেল মালিকের সংবাদ সম্মেলন হরিরামপুরে পদ্মার ভয়াল ভাঙন: লিপি আক্তারের শেষ সম্বল ভিটা রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলার দাবি আশাশুনির কুল্যার মোড়ে মাদক ও অনলাইন জুয়া বিরোধী মানববন্ধন, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি সিলেটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএনপি নেতা ও আইনজীবী এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিবের মৃত্যু নেছারাবাদে ইনস্টিটিউট মাধ্যমিক খালেক বিদ্যালয়ে ভবন সংকট: ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা টিআইএন থাকলেই দিতে হতে পারে কর, বাতিল হচ্ছে শূন্য রিটার্নের সুযোগ

শীতের শুরুতেই হাট-বাজার ও রেলস্টেশনে জমে উঠেছে ভাঁপা-চিতই পিঠার বেচাকেনা

প্রকৃতিতে কড়া নাড়ছে শীত, নেত্রকোনায় পিঠার স্বাদে মুখর পিঠাপ্রেমীরা

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫১ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনায় প্রকৃতিতে কড়া নাড়ছে শীত। হেমন্তের শেষে শীতের আগমনে বদলে যাচ্ছে জনপদের চেনা দৃশ্য। ভোর ও সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ। এই শীতের শুরুতেই আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার সংস্কৃতি। শীত আর পিঠার চিরায়ত বন্ধনে মজে উঠেছেন পিঠাপ্রেমীরা।

অগ্রহায়ণের শেষভাগে সন্ধ্যা নামলেই জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রেলস্টেশন, রাস্তার মোড় ও জনসমাগমস্থলে অস্থায়ী চুলার পাশে তৈরি হচ্ছে ভাঁপা ও চিতই পিঠা। গরম পিঠার ধোঁয়া আর মিষ্টি গন্ধে মুখর হয়ে উঠছে চারপাশ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের ভিড়ে জমে উঠছে পিঠার দোকান।

সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গোধূলি বেলায় হালকা কুয়াশা নামতেই পিঠা বানানোর তোড়জোড় শুরু করেন মৌসুমি বিক্রেতারা। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে লাইনে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন গরম গরম পিঠা। অনেকেই আবার পরিবারের জন্য পিঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। বিক্রেতারা জানান, বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।

পৌর শহরের রেলক্রসিং এলাকার পিঠা বিক্রেতা মরিয়ম বেগম জানান, বৃদ্ধ মা, অসুস্থ স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসারের হাল ধরতে পিঠা বিক্রিই এখন তার একমাত্র অবলম্বন। তিনি বলেন, “চিতই পিঠার সঙ্গে ধনেপাতা ও শুঁটকি ভর্তা দেওয়া হয়। নারকেল ও গুড়ের ভাঁপা পিঠাও বানাই। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ পিস পিঠা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাভ থাকে।”

বারহট্টা উপজেলার পিঠা বিক্রেতা সালমা আক্তার, মোহনগঞ্জের মজিবুর রহমান, কলমাকান্দার সুজন মন্ডল ও মদনের জামাল মিয়া জানান, শীত মৌসুমেই পিঠার বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। তবে চাল, গুড় ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ নেই। তবুও প্রতিদিন দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা লাভ থাকে।

পিঠা কিনতে আসা জেলা সদরের উকিলপাড়ার শিপন ও বারহাট্টা এলাকার সুমন বলেন, “একসময় শীত এলে বাড়িতেই নানা রকম পিঠা বানানো হতো। এখন সময়ের অভাবে বাইরে থেকেই পিঠা কিনে খেতে হয়। তবুও শীতের পিঠার স্বাদ এখনো আলাদা।”

মোহনগঞ্জ এলাকার পিঠাপ্রেমী আমেনা খাতুন জানান, “ঝামেলা ছাড়াই স্বল্প দামে গরম পিঠা পাওয়া যায় বলেই প্রায়ই কিনে খাই।”

দৈনিক ইত্তেফাকের নেত্রকোনা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, “ভাঁপা ও চিতই পিঠা গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য বহন করছে। একই সঙ্গে মৌসুমি এই ব্যবসা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শীতের শুরুতেই হাট-বাজার ও রেলস্টেশনে জমে উঠেছে ভাঁপা-চিতই পিঠার বেচাকেনা

প্রকৃতিতে কড়া নাড়ছে শীত, নেত্রকোনায় পিঠার স্বাদে মুখর পিঠাপ্রেমীরা

আপডেট সময় : ০৬:৪০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

নেত্রকোনায় প্রকৃতিতে কড়া নাড়ছে শীত। হেমন্তের শেষে শীতের আগমনে বদলে যাচ্ছে জনপদের চেনা দৃশ্য। ভোর ও সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ। এই শীতের শুরুতেই আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার সংস্কৃতি। শীত আর পিঠার চিরায়ত বন্ধনে মজে উঠেছেন পিঠাপ্রেমীরা।

অগ্রহায়ণের শেষভাগে সন্ধ্যা নামলেই জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রেলস্টেশন, রাস্তার মোড় ও জনসমাগমস্থলে অস্থায়ী চুলার পাশে তৈরি হচ্ছে ভাঁপা ও চিতই পিঠা। গরম পিঠার ধোঁয়া আর মিষ্টি গন্ধে মুখর হয়ে উঠছে চারপাশ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের ভিড়ে জমে উঠছে পিঠার দোকান।

সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গোধূলি বেলায় হালকা কুয়াশা নামতেই পিঠা বানানোর তোড়জোড় শুরু করেন মৌসুমি বিক্রেতারা। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে লাইনে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন গরম গরম পিঠা। অনেকেই আবার পরিবারের জন্য পিঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। বিক্রেতারা জানান, বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।

পৌর শহরের রেলক্রসিং এলাকার পিঠা বিক্রেতা মরিয়ম বেগম জানান, বৃদ্ধ মা, অসুস্থ স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসারের হাল ধরতে পিঠা বিক্রিই এখন তার একমাত্র অবলম্বন। তিনি বলেন, “চিতই পিঠার সঙ্গে ধনেপাতা ও শুঁটকি ভর্তা দেওয়া হয়। নারকেল ও গুড়ের ভাঁপা পিঠাও বানাই। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ পিস পিঠা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাভ থাকে।”

বারহট্টা উপজেলার পিঠা বিক্রেতা সালমা আক্তার, মোহনগঞ্জের মজিবুর রহমান, কলমাকান্দার সুজন মন্ডল ও মদনের জামাল মিয়া জানান, শীত মৌসুমেই পিঠার বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। তবে চাল, গুড় ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ নেই। তবুও প্রতিদিন দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা লাভ থাকে।

পিঠা কিনতে আসা জেলা সদরের উকিলপাড়ার শিপন ও বারহাট্টা এলাকার সুমন বলেন, “একসময় শীত এলে বাড়িতেই নানা রকম পিঠা বানানো হতো। এখন সময়ের অভাবে বাইরে থেকেই পিঠা কিনে খেতে হয়। তবুও শীতের পিঠার স্বাদ এখনো আলাদা।”

মোহনগঞ্জ এলাকার পিঠাপ্রেমী আমেনা খাতুন জানান, “ঝামেলা ছাড়াই স্বল্প দামে গরম পিঠা পাওয়া যায় বলেই প্রায়ই কিনে খাই।”

দৈনিক ইত্তেফাকের নেত্রকোনা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, “ভাঁপা ও চিতই পিঠা গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য বহন করছে। একই সঙ্গে মৌসুমি এই ব্যবসা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।”