প্রশাসনের অভিযানের পরও অব্যাহত খনন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কা
রাজশাহীর দুর্গাপুরে থামছেই না ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন, আতঙ্কে কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী:
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। উপজেলার ২নং কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের ধামইন গ্রামের একটি বিলে প্রকাশ্যে চলছে পুকুর খননের কাজ। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি, অন্যদিকে খননকৃত মাটি পরিবহনের সময় সড়কে মাটি পড়ে চলাচলে ভোগান্তি ও রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুকুর খননকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুকুর খননকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে এলাকায় মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ও অর্থবিত্তের জোরে পুকুর খননকারী ব্যক্তি স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে এক জমির মালিককে ভেকু চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনার পর দুর্গাপুর এলাকাতেও একই ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
সূত্র বলছে, তাহেরপুর এলাকার এক মাছ ব্যবসায়ী ও আরও দুই ব্যক্তি আড়ালে থেকে পুকুরটি খনন করছেন। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একটি প্রভাবশালী গ্রুপের মাধ্যমে এই কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “পুকুর খননকারী মোস্তফা আমার সঙ্গে কোনো কথা না বলেই আমার সরিষা ক্ষেত মাটি ফেলে ভরাট করে দিয়েছে। আমি তিন বছরের জন্য জমি লিজ নিয়েছি। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।” একই অভিযোগ করেন আরও কয়েকজন কৃষক, যাদের সরিষার আবাদ মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাশতুরা আমিনা জানান, এ ঘটনায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে এবং একটি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি এখন থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন,“মামলার পর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে। ইউএনও মহোদয় পুনরায় অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান বলেন, “এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






















