সাঁতার না জানায় তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় আনাস, দুই দিন পর ভোরে নদীর তীরে ভাসতে দেখা যায় মরদেহ
কিশোরগঞ্জে ধনু নদীতে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজ, ৪৮ ঘণ্টা পর কিশোর আনাসের মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০২:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জ, ইটনা | ১৪ মে ২০২৬ :
কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলায় ধনু নদীতে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনাস (১৪) নামে এক কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার এনসহিলা গ্রাম সংলগ্ন ধনু নদীর তীরে কিশোরটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নিহত আনাস উপজেলার কুর্শি গ্রামের বড়হাটি এলাকার মানিক মিয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছয় বোনের মধ্যে আনাসই ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে আহাজারি ও শোকের মাতম।
স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গরুকে গোসল করাতে ধনু নদীতে যায় আনাস। একপর্যায়ে নদীর পানিতে নামার পর সে তীব্র স্রোতের মধ্যে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায় সে। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই দিন ধরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় আনাসের মরদেহটি পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে ধনু নদীতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতও তীব্র থাকে। এ সময় এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিল উজ জামান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধার পর্যন্ত আমি পরিবারটির পাশে ছিলাম। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, নদী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সাঁতার না জানা শিশু-কিশোরদের নদীতে একা না পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।






















