ঘুষ ছাড়া মিলছে না ক্লিয়ারেন্স, অভিযোগে তোলপাড় সোনাগাজী
সোনাগাজীতে মামলার আসামিও পাচ্ছেন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: কনস্টেবল রিমনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

সোনাগাজী, ফেনী | ১২ মে ২০২৬ :
সোনাগাজী মডেল থানা-এ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর থানার কনস্টেবল মোঃ রিমনের দিকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার আসামি হয়েও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চারিত্রিক সনদ বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছেন কিছু ব্যক্তি। এতে একদিকে যেমন অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ প্রবাসী ও বিদেশগামী নাগরিকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, কনস্টেবল রিমন দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, শাহাদাত হোসেন টিপু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও ১২ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে তাকে ক্লিয়ারেন্স পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিচারাধীন মামলার আসামি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার যোগ্য নন।
ধাপে ধাপে আদায় করা হচ্ছে টাকা
সরকারি নিয়মে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ফি ৫০০ টাকা (চালান) হলেও বাস্তবে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক ড্রাফট ১৫২০ টাকা, আবেদন ফি ২০০ টাকা দেওয়ার পর থানার ভেতরে অতিরিক্ত ১৫০০–২০০০ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ফেনী থেকে ক্লিয়ারেন্স এনে দেওয়ার কথা বলে আরও ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। ফলে একটি সাধারণ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ৩০০০–৪০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে।
জরুরি ক্লিয়ারেন্স ও মামলার আসামিদের জন্য আলাদা রেট
২–৩ দিনের মধ্যে জরুরি ক্লিয়ারেন্সের জন্য ৫–৬ হাজার টাকা এবং যাদের নামে মামলা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ১০–২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের আবেদনে ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল বা দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
প্রবাসীদের হাহাকার, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
এলাকার প্রবাসী ও বিদেশগামীরা এই অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ পুলিশ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।






















