৭ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ক্ষোভ স্থানীয়দের
পাঁচবিবিতে নিম্নমানের ইট-বালু-খোয়া দিয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের অভিযোগ, এলজিইডির তদন্তের আশ্বাস
- আপডেট সময় : ০৭:০২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচবিবি বড়মানিক মোড় থেকে শালপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাজের শুরু থেকেই অনিয়মের মাধ্যমে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলেও যথাযথ তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার একই অনিয়ম করে যাচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আরডিআইআরডাব্লিউএসপি প্রকল্পের আওতায় পাঁচবিবি বড়মানিক মোড় থেকে শালপাড়া বাজার পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় নওগাঁর ইথেন এন্টারপ্রাইজকে।প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৮ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের দুই ধারের বেড নির্মাণে ইট, খোয়া ও বালুর পরিবর্তে ইটভাটার ডাস্ট ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় গত ৮ মার্চ ও ১২ মার্চ পৃথক দুটি চিঠির মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮০ মিটার সড়কে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেয়।
তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন করে সড়কের দুই ধারে আবারও বালু মেশানো খোয়া ফেলা হচ্ছে। এছাড়া বিট বালুর পরিবর্তে জমির মাটি ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় পথচারী সাইদুল ইসলাম বলেন, “জীবনে বহু সরকারি কাজ দেখেছি, কিন্তু এত নিম্নমানের কাজ কখনও দেখিনি। শুনেছি নিম্নমানের খোয়া তোলা হবে, কিন্তু প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেও তা দেখিনি।
রুহুল আমিন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “ইটভাটার ডাস্ট দিয়ে সড়কের কাজ হয়, এটা এই প্রথম দেখলাম।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়মারসুল ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি কাজের সময় প্রকৌশল অফিসের তদারকির লোক থাকার কথা থাকলেও কাউকে দেখা যায় না। আর সেই সুযোগেই কাজে অনিয়ম হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার নুর আলম বলেন, “কাজ আমাদের হলেও অন্যজন কাজটি করছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন দাবি করেন, নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অপসারণের ছবি অফিসে সংরক্ষিত আছে, চাইলে দেখতে পারবেন।”
অন্যদিকে জয়পুরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “নিম্নমানের কাজের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হুমকির মুখে পড়বে।






















