রেললাইনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত, জাল লিজ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা
কালিয়াকৈরে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত: শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, উদ্ধার প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি
- আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

কালিয়াকৈর, গাজীপুর | ৬ মে ২০২৬ :
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার পূর্বচান্দরা মাটিকাটা রেললাইন বাজার, রতনপুর রেলস্টেশন ও ভান্নারা এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের রেলওয়ের জমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা এবং কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিম শাহরিয়ার।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রেললাইনের পাশের সরকারি জমি দখল করে দোকানপাট ও টিনশেড স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিল। এতে ট্রেন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ ও মাইকিং করে স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হলেও নির্দেশ অমান্য করায় বুধবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাটিকাটা রেললাইন বাজার এলাকায় ভাঙা টিন, বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শ্রমিকরা দড়ি দিয়ে টেনে টিনের চালা ও বেড়া ভেঙে ফেলছেন। অনেক ব্যবসায়ী তড়িঘড়ি করে তাদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে চায়ের দোকান, মুদি দোকান, ওয়ার্কশপ এবং বসতঘরও ছিল। অধিকাংশ স্থাপনাই রেললাইন থেকে মাত্র ১০-১২ ফুট দূরে নির্মিত ছিল।
উচ্ছেদের শিকার লুৎফর রহমান ও হাবিবুর হৃদয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা স্থানীয় নেতা ও কিছু রেলওয়ে কর্মচারীকে টাকা দিয়ে দোকান নির্মাণ করেছিলেন। তাদের দেওয়া লিজের কাগজ এখন অবৈধ ও জাল বলে দাবি করা হচ্ছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে রেলওয়ের জমি দখল করে আসছিল, যা ট্রেন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং জাল লিজের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টও একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল, তবে কিছুদিন পর আবারও জমি দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।






















