মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের নবজাতককে নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিল উপজেলা প্রশাসন
কটিয়াদীতে ইউএনও’র মানবিকতা: অসহায় নবজাতক পেল নতুন ঠিকানা
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ। এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া পরিচয়হীন এক নবজাতকের দায়িত্ব নিয়ে তাকে একটি নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দেওয়ার মাধ্যমে তিনি মানবিকতার নজির গড়েছেন।
জানা যায়, কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তার কোলজুড়ে জন্ম নেয় একটি নবজাতক শিশু, যার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখা যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এক নিঃসন্তান দম্পতিকে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব দেন। হস্তান্তরের সময় তিনি নবজাতককে স্নেহভরে বুকে তুলে নেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
এ প্রক্রিয়ায় শিশুটির সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। পুরো কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয় উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে।
স্থানীয়রা জানান, ইউএনও শুধু একটি শিশুর জীবন রক্ষা করেননি, বরং একটি পরিবারকে পূর্ণতা দিয়েছেন। মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের এই উদাহরণ প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “মানবিক বিবেচনায় এবং শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি উপযুক্ত পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে। শিশুটির সার্বিক যত্ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দত্তক গ্রহণকারী পরিবারের সদস্যরা।
মানবিক এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করেন, “বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা—আর সেটিই প্রমাণ করলেন ইউএনও।”






















