লোকালয়ে ঢুকে পড়া বন্য হাতির তাণ্ডবে কক্সবাজারের রামুতে প্রাণ গেল মা ও শিশুকন্যার
রামুর খুনিয়াপালংয়ে বন্য হাতির আক্রমণ: পিষ্ট হয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু, অল্পের জন্য রক্ষা বাবা-ছেলে
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার | ৩০ এপ্রিল ২০২৬ :
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন আছমা বিবি (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে ছেমন আরা। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল হঠাৎ করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে দেয়। এতে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল উদ্দিন বলেন, শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হন একরাম মিয়া, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। এ সময় হাতিরা তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হন। কিন্তু আছমা বিবি ও তার ছোট মেয়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। পরে হাতিরা আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক এবং বনবিভাগের জমিতে বসবাস করছিলেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চল উজাড় ও বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য প্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকায় হাতির উপদ্রব বেড়েছে, যা জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঘটনাটির পর হাতির পালটিকে বনাঞ্চলে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রামু থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।






















