প্রভাবশালীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার
কিশোরগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম, ভয়ে মামলা করতে পারছে না পরিবার
- আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ :
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও হামলাকারীদের ভয়ে এখনো মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবার।
আহত আশরাফুল হেকিম দিদার উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের কল্লা দক্ষিণ নগর গ্রামের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিম মিয়ার ছেলে। তিনি গত বছরের ১ নভেম্বর করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা নৌ-ঘাটে টুরিস্ট পুলিশে কর্মরত অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় পূর্ব শত্রুতার জেরে তাজুল ইসলাম, তার ছেলে পিয়াস ও শামীমসহ ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে দিদারের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে করিমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার পর থেকে অভিযুক্তদের হুমকির কারণে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন এবং ঘরের বাইরে বের হতেও আতঙ্কে রয়েছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। সাত দিন পার হলেও আমরা ভয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারিনি। প্রশাসনের কাছে আমরা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আহত আশরাফুল হেকিম দিদার বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। আমাকে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর জখম করে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















