নদীভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তিতে চরাঞ্চলের মানুষ
ক্ষমতার রদবদলেও বদলায়নি হরিরামপুরের চরাঞ্চল: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগে চরম অবহেলা
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ | হরিরামপুর | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ :
ক্ষমতার রদবদল হলেও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। পদ্মা নদীর ভাঙনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত আজিমনগর, সুতালড়ি ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দারা এখনও মৌলিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব এলাকার অধিকাংশ স্থাপনা ইতিমধ্যে পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ব্যয়বহুল ঘোড়ার গাড়ি। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ছাড়া কার্যত কোনো বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নেই।
শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্রও নাজুক। দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হলেও নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয় এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। নদীভাঙনের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন কমছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার মান ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে।
উল্লেখ্য, আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে এনায়েতপুরে স্কুলের কার্যক্রম চলছে। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, বিশেষ করে হাতিঘাটা এলাকায় রাস্তাঘাট না থাকায় যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।
নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বর্ষায় গঙ্গাদরধি-নটাখোলা খাল পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হানিফ জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো, কালভার্ট ও ব্রিজ না থাকায় বর্ষায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহিনুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও রয়েছে গুরুতর সংকট। একাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হারিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে কিছু সেবা চালু থাকলেও জনবল ও ওষুধ সংকট প্রকট।
স্থানীয়রা মনে করেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী একেএম রাসেল জানান, সীমিত জনবল ও অবকাঠামো সংকট থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের অবহেলায় চরাঞ্চলের মানুষ এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত।






















