ভাড়া, বিক্রি ও দখলে প্রকল্পের ঘর; মাদক ও অপরাধে জড়িত বহিরাগতদের আনাগোনা
কালাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের ছড়াছড়ি: ফাঁকা ঘরে মাদক কারবারিদের আস্তানা, বঞ্চিত প্রকৃত গৃহহীনরা
- আপডেট সময় : ১০:০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

কালাই, জয়পুরহাট | ২১ এপ্রিল ২০২৬:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন নানা অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ফাঁকা ঘরগুলো দখল করে মাদক কারবার ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে, ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে অসহায় পরিবারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ঘরই ভাড়াটিয়া, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মাদক কারবারিদের দখলে রয়েছে। ১৫৯টি পরিবারের বসবাসের কথা থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক উপকারভোগী এলাকা ছেড়ে গেলে তাদের ঘরগুলো জবরদখল করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুটি প্রকল্পে মোট ১৫৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১১৯টি সেমিপাকা ও ৪০টি টিনশেড। মাত্রাই ইউনিয়নের কাঁটাহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৮টি ঘর এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এসব ঘরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত রোকেয়া বেগম, রজ্জব আলী ও ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, মাদকসেবীরা অনেক ঘর দখল করে রেখেছে।
এছাড়া ৫৫ নম্বর ঘরের উপকারভোগী নুরনবী-কুলসুম দম্পতিকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
উদয়পুর ইউনিয়নের বিনইল ও উত্তরপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বহিরাগতদের আড্ডা, মাদকসেবন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু ঘর ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। শ্রীপুর, জিন্দারপুর, ঘাটুরিয়া ও বাদাউচ্চ এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতেও অধিকাংশ ঘর ভাড়া বা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
পাইকপাড়া ও লকইর আশ্রয়ণে প্রায় ২২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০টির মালিক জেলা শহরে বসবাস করছেন, বাকিগুলো দখলে রয়েছে প্রভাবশালীদের।
একই অবস্থা তালোড়া বাইগুনী পীরপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। এখানে ১৫৯টি ঘরের প্রায় অর্ধেকই ভাড়াটিয়াদের দখলে। কর্মসংস্থানের অভাবে প্রকৃত উপকারভোগীরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হওয়ায় ফাঁকা ঘরগুলো মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হচ্ছে।
বাসিন্দারা জানান, প্রকল্প এলাকায় পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব রয়েছে। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় খেতের আইল দিয়ে চলাচল করতে হয়, বর্ষায় পানি জমে এবং ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। সুপেয় পানির সংকটও প্রকট। অনেক নলকূপ চুরি হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি হওয়ায় তা ব্যবহার অনুপযোগী।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন নলকূপ স্থাপন ও চুরি রোধে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদক সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে জবরদখল, ভাড়া ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করা হবে। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই, জয়পুরহাট, আশ্রয়ণ প্রকল্প, মাদক কারবার, জবরদখল, গৃহহীন পুনর্বাসন, বাংলাদেশ উন্নয়ন, স্থানীয় সংবাদ, Ashrayan Project, crime news BD






















