মানবপাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারে জোর
কক্সবাজারে মানবপাচার রোধে সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ১০:১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার, ২০ এপ্রিল ২০২৬:
সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করতে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্দামান সাগর হয়ে মানবপাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কক্সবাজার হর্টিকালচার মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজার উপকূল ধীরে ধীরে মানবপাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুটে পরিণত হচ্ছে। পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এই অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সৈকতের সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, মানবপাচার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এই অপরাধ চক্র ভাঙতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি বলেন, মানবপাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনে সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং তথ্য যাচাই করে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।
দৈনিক প্রথম আলোর কক্সবাজারের নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুল কুদ্দুস রানা তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “মানবপাচার নিয়ে কাজ করতে হলে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার গভীরে যাওয়া জরুরি।”
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে অনেকেই দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে আরও জোরালোভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় মোট ৫৩ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। তারা মানবপাচার প্রতিরোধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এছাড়া পাচারের শিকার কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে সনদ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।






















