শিশুদের রোগ প্রতিরোধে তিন সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী এমআর টিকাদান কর্মসূচি শুরু
গোপালগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ শুরু, লক্ষ লক্ষ শিশুকে সুরক্ষার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ, ১৯ এপ্রিল ২০২৬: গোপালগঞ্জ জেলায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই কার্যক্রম চলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা। হামের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও এনকেফালাইটিসের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে গর্ভবতী মা রুবেলায় আক্রান্ত হলে অনাগত শিশুর গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন তিন সপ্তাহব্যাপী চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইপিআই কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভার স্থায়ী কেন্দ্র এবং দুর্গম এলাকায় অস্থায়ী কেন্দ্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, প্রতিটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো শিশু যেন টিকার বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল ২০ এপ্রিল বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ পৌরসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ- জামান।
এর আগে ১৯ এপ্রিল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোঃ ফারুক। উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. দিবাকর বিশ্বাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত তাসনিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “একটি শিশুও যদি টিকার বাইরে থাকে, তাহলে পুরো সমাজ ঝুঁকিতে পড়ে।” তাই এই ক্যাম্পেইনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।






















