নকশা উপেক্ষা, ঢালাই কম, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
বরিশালে ব্রিজ নির্মাণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ: রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

আগৈলঝাড়া, বরিশাল, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজে নকশা ও নির্মাণমান উপেক্ষা করে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী–করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অন্তত ৫ ইঞ্চি পুরু ঢালাই থাকার কথা, সেখানে তা কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ ইঞ্চি করা হয়েছে। এছাড়া নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত দূরত্ব বজায় না রেখে প্রায় এক ফুট পরপর রড বসানো হয়েছে, যা কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, পর্যাপ্ত রডের অভাবে ঢালাইয়ের সময় বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়, যা একটি স্থায়ী অবকাঠামোর ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানান। পরে কিছু রড এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নির্মাণকাজ চলাকালে সিমেন্টের ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট সংগ্রহ করে কাজ শেষ করা হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্রিজটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও তা কমিয়ে ৪৫ ফুটে নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত অর্থের বাইরে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। তিনি বলেন, ব্রিজের মূল কাঠামোর বাইরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ব্যবহার করেছেন এবং এতে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজ নির্মাণে প্রথমে দেড় লাখ টাকা এবং পরে আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে দেখা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করা নিয়মবহির্ভূত এবং এটি প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালার লঙ্ঘন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্রিজটি মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।






















