থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় আম এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জে, বছরে দুইবার ফলনের সম্ভাবনায় আশাবাদী তরুণ কৃষক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ চাষে নতুন সম্ভাবনা, বছরে দুইবার ফলনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তা পলাশ
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, রাজশাহী, বাংলাদেশ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ মানেই আমের রাজধানী। এই জেলার উর্বর মাটিতে নানা জাতের সুস্বাদু আমের চাষ হয়ে আসছে বহুদিন ধরে। তবে এবার প্রথাগত আম চাষের গণ্ডি পেরিয়ে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা শ্রী পলাশ কর্মকার।
সদর উপজেলার আতাহার দক্ষিণ শহর এলাকায় পলাশ কর্মকারের ১০ বিঘা জমির বাগানে এখন দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে থোকায় থোকায় লম্বাকৃতির ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’, যা দেখতে অনেকটা কলার মতো হওয়ায় এর এমন নামকরণ।
গত ৫ বছর ধরে আম চাষের সঙ্গে যুক্ত পলাশ বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ২ হাজার আম গাছ পরিচর্যা করছেন। তার বাগানে রুপালি, কাটিমন, বারো-ফোর ও গৌড়মতির মতো জনপ্রিয় জাতের পাশাপাশি বিদেশি এই ব্যানানা ম্যাঙ্গোই এখন সবার নজর কাড়ছে।
পলাশ কর্মকার জানান, থাইল্যান্ডে এই আম বছরে দুইবার ফলন দেয়। তিনি বাংলাদেশেও একই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে তার বাগানের কিছু গাছে বড় আমের পাশাপাশি নতুন মুকুল আসতে শুরু করেছে, যা বছরে দুইবার ফলনের সম্ভাবনাকে জোরালো করছে।
তিনি বলেন, “এই আম বিদেশি হলেও আমাদের দেশের মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যদি বছরে দুইবার ফলন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক একটি ফসল হয়ে উঠবে।”
শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না পলাশ। তার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজার। তিনি ব্যানানা ম্যাঙ্গো রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
পলাশ বলেন, “আম রপ্তানির প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য একটি আধুনিক হিমাগার খুবই প্রয়োজন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি হিমাগার না থাকায় অনেক সময় আম নষ্ট হয়ে যায়।”
এলাকাবাসীর মতে, পলাশের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে যদি বছরে দুইবার ফলন নিশ্চিত করা যায় এবং রপ্তানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যায়, তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব ঘটতে পারে।






















