প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমে বদলে যাওয়া জীবন, অন্যদেরও দিচ্ছেন অনুপ্রেরণা
মানিকগঞ্জে নারী কৃষকের দৃষ্টান্ত: লিপি বেগমের জৈব চাষে সফলতা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অপরিসীম হলেও তা অনেক সময় অপ্রকাশিত থেকে যায়। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে নারীরাও সফল কৃষক ও সমাজ পরিবর্তনের কারিগর হতে পারেন—এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ মানিকগঞ্জের লিপি বেগম।
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার পাটগ্রামচর গ্রামের বাসিন্দা লিপি বেগম পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ২০২৩ সালে তিনি বারসিক (BARCIK)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিল দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি, জৈব বালাইনাশক ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশল।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি তার অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সারা বছর বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা চাষ করছেন। নিজ হাতে জৈব সার ও বালাইনাশক তৈরি করে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়াও দেশীয় বীজ সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের মাধ্যমে তিনি অতিরিক্ত আয় করছেন। হাঁস-মুরগি, গরু ও ছাগল পালন করে তার আয়ের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।
লিপি বেগমের এই উদ্যোগের ফলে তার বার্ষিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিবারের পুষ্টির মান উন্নত হয়েছে। শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং তার সফলতা দেখে আশেপাশের অনেক কৃষকও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন কমিউনিটি রিসোর্স পারসন হিসেবে পরিচিত। নিয়মিতভাবে অন্যান্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ভবিষ্যতে তিনি তার বাড়িকে একটি কৃষি শিক্ষা কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, লিপি বেগমের মতো উদ্যোগী নারীরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে—সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামীণ নারীরাও দেশের কৃষি উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।






















