এসএসসি প্রশ্নফাঁস মামলার অভিযুক্তদের পুনর্বহাল ঘিরে বিক্ষোভ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবক
কুড়িগ্রামে প্রশ্নফাঁসের অভিযুক্তদের পুনর্বহাল চেষ্টায় উত্তেজনা, মানববন্ধনে অপসারণের দাবি
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত ও সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষকদের পুনর্বহাল চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে নেহাল উদ্দিন বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইসলামী ব্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দি পাবলিক এক্সামিনেশন (অফেন্স) অ্যাক্ট, ১৯৮০-এর আওতায় দায়ের করা ওই মামলায় একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী অভিযুক্ত হন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন। ঘটনার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযুক্তদের খালাস দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আপিল চলমান থাকার বিষয়টি গোপন রেখে অভিযুক্তরা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে পুনর্বহালের আদেশ সংগ্রহ করে গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করেন। তারা বিদ্যালয়ের সিলমোহর তৈরি করে প্রশাসনিক কার্যক্রম দখলের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এতে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তরা পেশিশক্তি প্রয়োগের হুমকি দিলে অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিবাদ করেন। পরে তারা নিজেদের উপস্থিতি দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগদানের ঘোষণা দেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে আবারও প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের পুনর্বহাল শিক্ষা পরিবেশের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে অপসারণ এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।






















