প্যানিক বায়িংয়ে পাম্পে তীব্র চাপ, খোলা বাজারে দ্বিগুণ দামে তেল বিক্রির অভিযোগ
কটিয়াদীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন, বাড়ছে জনভোগান্তি
- আপডেট সময় : ১০:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহে ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কটিয়াদী সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে শত শত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের ভিড় দেখা যায়। পাম্পমুখী এই যানবাহনের চাপ মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে। এতে জরুরি সেবাসহ শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি সড়ক দখল করে ফেলায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক জরুরি রোগী বহনকারী গাড়িও এই যানজটে আটকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালেও কটিয়াদী পুরাতন বাজারে খুচরা তেলের দোকানগুলোতে একই চিত্র দেখা যায়। শতশত মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন সপ্তাহ ধরে এলাকায় পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে চালকেরা একসঙ্গে তেল সংগ্রহে ছুটে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ। এতে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।
তবে পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ নয়; বরং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক তেল নিতে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক চালক অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, গুজব ও অতিরিক্ত চাহিদাই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী।






















