সিন্ডিকেটের অভিযোগে কম মূল্যে ইজারা, রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা
রাজশাহী সিটি পশুহাট ইজারায় ৫ কোটি টাকার ঘাপলা অভিযোগ, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
- আপডেট সময় : ১০:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন উত্তরবঙ্গের বৃহৎ পশুহাট ‘রাজশাহী সিটি প্রাত্যহিক পশুহাট’ ইজারা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা কমে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, গত বছর সিটি পশুহাটটি প্রায় ১২ কোটি টাকার বেশি মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে ইজারাদারের ব্যয় দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু চলতি বছর রহস্যজনকভাবে সম্ভাব্য ইজারামূল্য কমিয়ে প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হাটটির ইজারা কম মূল্যে নিতে সক্রিয় রয়েছে। এতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রায় ৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, রাসিকের হাট-বাজার ইজারা কমিটির কিছু সদস্যও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, রাজশাহীর প্রভাবশালী হুন্ডি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ‘হুন্ডি মুকুল’ এই সিন্ডিকেটের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন। বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানও দিচ্ছেন তিনি। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, সম্ভাব্য সরকারি মূল্য নির্ধারণে কারসাজি করা হয়েছে। এ কারণে চলতি বছরের ইজারামূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ইজারা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তিনি ইজারা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে। এমনকি দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে কোনো তথ্য না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী সিটি প্রাত্যহিক পশুহাটসহ মোট ১৪টি হাট-বাজারের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে সম্ভাব্য ইজারামূল্য ধরা হয় ৭ কোটি ৩ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৫ টাকা। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১১ মার্চ।
দরপত্র বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি দরপত্র জমা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, একটি বিশেষ সিন্ডিকেট ইজারা কমিটির সঙ্গে যোগসাজশ করে সীমিত সংখ্যক দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
জমা পড়া দরপত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হন শওকত আলী। তিনি ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা দর দেন। ইজারা কমিটি তাকে এক বছরের জন্য সিটি পশুহাট ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। জানা গেছে, শওকত আলী আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী মুকুলের বেয়াই।
অভিযোগ রয়েছে, হুন্ডি মুকুলের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে তিনি রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর শওকত আলী ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় সিটি পশুহাট ইজারা নিয়েছিলেন। ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি মূল্য নির্ধারণ হওয়ার কথা থাকলেও এবার উল্টো প্রায় ৫ কোটি টাকা কমিয়ে সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে ইজারা সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে মূল্য কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইজারায় আগ্রহী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) আনম বজলুর রশীদ বলেন, গত তিন বছরের সম্ভাব্য গড় মূল্যের ভিত্তিতেই এবারের সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “১৫টি সিডিউল বিক্রি হলেও শেষ দিন মাত্র পাঁচজন দরপত্র জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।”






















