স্ট্রোকের পর ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনো হাঁটতে পারছেন না জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নির্মাতা
জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক শাহনেওয়াজ কাকলী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর Centre for the Rehabilitation of the Paralysed (CRP)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে স্ট্রোক করার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই।
পরিচালকের স্বামী ও অভিনেতা প্রাণ রায় জানান, বর্তমানে নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে তার চিকিৎসা চলছে। ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা করতে পারছেন না তিনি।
প্রাণ রায় বলেন, প্রথমদিকে বসে থাকতেও পারতেন না শাহনেওয়াজ কাকলী। তবে এখন চেয়ারে বসিয়ে দিলে কিছু সময় বসে থাকতে পারেন। হাঁটার সময় কোমরে বেল্ট বেঁধে সহায়তা করতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে।
তিনি আরও জানান, শুরুতে কথা বলতেও বেশ কষ্ট হতো পরিচালকের। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন। তবে তার বাম হাত ও বাম পা এখনো নিজ থেকে নড়াচড়া করতে পারে না।
স্ট্রোকের পর প্রথমে দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শাহনেওয়াজ কাকলী। এরপর এক মাস বাসায় থাকার পর পুনরায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে হাসপাতালের কেবিনেই চিকিৎসা চলছে।
স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের গাড়িও বিক্রি করেছেন প্রাণ রায়। এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বন্ধু, সহকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক মানুষ। পাশাপাশি শিল্পী সংগঠন ও চারুকলার সহপাঠীরাও সহযোগিতা করছেন বলে জানান তিনি।
প্রাণ রায় বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন নির্মাতা হিসেবে শাহনেওয়াজ কাকলী দেশের সম্পদ। তাই তার চিকিৎসার বিষয়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘উত্তরের সুর’ চলচ্চিত্রের কাহিনির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন শাহনেওয়াজ কাকলী। তার পরিচালিত ‘নদীজন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান অভিনেত্রী তমা মির্জা। এই দুটি সিনেমা দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
এদিকে, ‘ফ্রম বাংলাদেশ’ নামে তার নির্মিত নতুন চলচ্চিত্রের প্রায় ১০ শতাংশ কাজ অর্থ সংকটের কারণে এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।






















