একাধিক কার্ডে চাল উত্তোলন ও নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভ স্থানীয়দের
পাকুন্দিয়ায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: একাধিক কার্ডে চাল উত্তোলন, নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিক্রির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

এ.এস.এম হামিদ হাসান |
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে এক ব্যক্তি একাধিক কার্ড ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এমনকি এক সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি চাল উত্তোলন করে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন মির্জাপুর আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে সরেজমিনে এসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা।
কিন্তু বিতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একাধিক কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করছেন। আবার অনেক সুবিধাভোগী নিজে উপস্থিত না হয়ে অন্যদের মাধ্যমে কার্ড পাঠাচ্ছেন, যার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি একাধিক বস্তা চাল উত্তোলন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক কার্ডে সুবিধাভোগীর নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই। ফলে প্রকৃত দুস্থদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এ সুযোগে প্রভাবশালীরা একাধিক কার্ড ব্যবহার করে চাল তুলে নিচ্ছেন।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মির্জাপুর আলিম মাদ্রাসার সামনে ১০ কেজি চাল ২০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে দেখা যায় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নাসিমা আক্তারকে।
সরকারি চাল কেন বিক্রি করছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “খাবারের জন্য নিয়েছিলাম, কিন্তু মান ভালো না হওয়ায় বিক্রি করে দিয়েছি।” তবে তিনি কীভাবে ওই চাল উত্তোলন করলেন, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
চাল বিতরণে অব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মোবারক হোসেন বলেন, “কার্ডগুলোতে নাম-পরিচয় উল্লেখ ছিল না। সকালে এক ব্যক্তি একাধিক কার্ড নিয়ে আসায় বাগ্বিতণ্ডাও হয়েছে। তবে কোনো জনপ্রতিনিধি চাল তুলেছেন কি না, তা আমার জানা নেই।”
চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, “এক ব্যক্তির একাধিক কার্ড নিয়ে চাল নেওয়ার সুযোগ নেই। নারী সদস্যের চাল বিক্রির বিষয়টি আমি দেখিনি। অভিযোগ শোনার পর তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, “আমি গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। যদি কোনো অনিয়ম বা সরকারি চাল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চরফরাদী ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৫৪৫ জন কার্ডধারীর মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বিতরণে এমন বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।






















