দুদক অনুসন্ধানে ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সে রেশন চুরির ঘটনায় বড় ধাক্কা, ১১ জনের নামে মামলা
ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সে ২৫২ ভুয়া রেশন কার্ডে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতি: দুদক মামলা
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

মাহবুব হাসান, স্টাফ রিপোর্টার ঝালকাঠিঃ
ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সের রেশন স্টোরে দীর্ঘ ৮ বছরের মধ্যে ২৫২টি ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে প্রায় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকার রেশন সামগ্রী আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে এই ঘটনা প্রকাশিত হয়।
২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ জন পুলিশ সদস্য ও স্টোর কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সের সাবেক মেস ম্যানেজার এএসআই মো. আলাউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক আরিফ মাহামুদ, মো. আল মামুন, মো. রেজাউল করিম ও কাজী রাজীউজ জামান। এছাড়া কনস্টেবল আতিকুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, অফিস সহকারী তৌফিক এলাহী, রেশন স্টোরের ওজনদার জহির উদ্দিন ও বিক্রয় সহকারী সৈয়দ জসিম উদ্দিনও মামলার আসামি।
তদন্তে দেখা গেছে, জালিয়াতির চক্রে ব্যবহার করা ভুয়া কার্ডগুলোর বিপরীতে বাস্তবে কোনো পুলিশ সদস্যের অস্তিত্ব ছিল না। এই কার্ড ব্যবহার করে নিয়মিত রেশন উত্তোলন ও বাজারে বিক্রি করা হতো বা নগদ রূপান্তর করা হতো।
জালিয়াতির পরিমাণ বছর ধরে বৃদ্ধি পায়। ২০১৩ সালে ৬০টি ভুয়া কার্ড ব্যবহার করে ১৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা মূল্যের রেশন উত্তোলন করা হয়। ২০২০ সালে ১৪৮টি কার্ডে ৭৩ লাখ টাকা, আর ২০২১ সালে ২৫২টি কার্ড ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার রেশন আত্মসাৎ করা হয়েছে।
উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হিসাবপত্রে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বাস্তব যাচাই করলে জালিয়াতির ছাপ ধরা পড়ে। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রেশন ব্যবস্থা মূলত সদস্যদের সহায়তার জন্য হলেও তা জালিয়াতির শিকার হলে আস্থার বড় ধাক্কা সৃষ্টি হয়।






















