ঢাকা থেকে পাঠানো খেজুরের কার্টনে গরমিল, প্রশাসনের ব্যাখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন
সৌদি বাদশাহর উপহার খেজুরে গরমিল: ঢাকায় ৫২০, কুমিল্লায় পৌঁছাল ৫০০ কার্টন—উধাও ২০ কার্টন নিয়ে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৯:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
সৌদি আরবের বাদশাহর মানবিক সহায়তা হিসেবে পাঠানো খেজুর বিতরণে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লায়। ঢাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ৫২০ কার্টন খেজুর কুমিল্লায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৫০০ কার্টনে নেমে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাকি ২০ কার্টন খেজুর কোথায় গেল—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
জানা যায়, সৌদি আরবের বাদশাহর মানবিক সহায়তা সংস্থা কিং সালমান হিউমেনিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার থেকে বাংলাদেশে পবিত্র রমজান উপলক্ষে খেজুর পাঠানো হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫২০ কার্টন খেজুর।
গত ৮ মার্চ সোমবার কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাবেদ আলী জেলার ১৭টি উপজেলার জনসংখ্যার অনুপাতে মোট ৫০০ কার্টন খেজুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর পাঠান।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার চিঠিতে ৫০০ কার্টন খেজুর বিতরণের তথ্য পাওয়া গেলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার জন্য ৫২০ কার্টন খেজুর পাঠানো হয়েছিল।
এই গরমিলের বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে সমালোচনা। তানিম আহমেদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, সৌদি আরবের বাদশাহর দেওয়া খেজুর যদি ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসার পথে ২০ কার্টন উধাও হয়ে যায়, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাবেদ আলী বলেন, “আপনি কী বলতে চান? আমি পাঁচশ কার্টন পেয়েছি। ওয়েবসাইটে নম্বর আছে, আপনি ফোন দিয়ে ডিজিকে জিজ্ঞেস করেন কুমিল্লায় কত কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে ঢাকায় থেকে পাঁচশ কার্টনই দেওয়া হয়েছে। চিঠি পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো ওয়েবসাইটে পরিবর্তন করা হয়নি।”
এদিকে এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।






















