প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলায় আহত সভাপতি রেজাউল করিম
রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর সশস্ত্র হামলা: চাঁদাবাজির মামলায় ২ আসামি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ২৭৮ বার পড়া হয়েছে

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন |
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতির ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী কোর্ট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে ও মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ও মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিম (৪০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিশালের বিরুদ্ধে আগেই একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ইব্রাহিম এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা ইব্রাহিমকে গণপিটুনি দেয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার আরেক আসামি সাইদ আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), সুরুজ আলী (৩০), সাইদ আলী (৩৮) ও রেন্টু (৩০)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রেস ক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তারা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল ঠেকিয়ে ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে ভয়ভীতি দেখান।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে তাঁর উরুতে গুরুতর জখম হয় এবং হাসপাতালে তাকে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।
হামলার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) ফেলে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত সাংবাদিক নেতাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া গাড়িটি জব্দ করে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল ও ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।






















