উত্তর আধারমানিক শান্তি সমিতির আয়োজনে লীলা কীর্তন, ধর্মসভা ও ভোগারাধনায় ভক্তিময় পরিবেশ
রাউজানে শ্রীশ্রী রাধামদনমোহন জীউ’র ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব, হাজারো ভক্তের সমাগম
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

মিলন বৈদ্য শুভ | রাউজান (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উত্তর আধারমানিক এলাকায় শ্রীশ্রী রাধামদনমোহন জীউ’র ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উত্তর আধারমানিক শান্তি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই তিনদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান গত ৭, ৮ ও ৯ মার্চ নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে অষ্টপ্রহরব্যাপী লীলা কীর্তন, মহতী ধর্মসভা, শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞ সংকীর্তন এবং চৌষট্টি মোহান্তের ভোগারাধনার আয়োজন করা হয়। উৎসবের সূচনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও নাম কীর্তনের মাধ্যমে পল্লী পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে ফরিদপুর জেলার শিবরামপুর থেকে আগত শ্রী গোরাচাঁদ মোহান্ত শ্রীশ্রী গৌর-গোবিন্দের লীলা কীর্তন পরিবেশন করেন। ধর্মীয় আলোচনা সভায় “ভক্ত বিরহ” বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রয়াত সুধীর রঞ্জন চৌধুরী, তাঁর সহধর্মিণী প্রয়াতা ঝরণা রাণী চৌধুরী এবং প্রয়াত বসন্ত কুমার দে’র স্মৃতিচারণ করা হয়।
এসময় বিদগ্ধ আলোচকরা ভক্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে গঙ্গা আহ্বান ও শুভ অধিবাস কীর্তনের পৌরহিত্য করেন শ্রীশ্রী কৃষ্ণগোপাল জীউ’র মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীল কৃষ্ণদাস বাবাজী। তাঁকে সহযোগিতা করেন শ্রীল দামোদর দাস। শুভ অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করেন অধ্যাপক রাজীব বিশ্বাস।
মহোৎসব উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞ সংকীর্তনের শুভারম্ভ, ঠাকুরের রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং দিবারাত্রি অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়।
শেষ দিনে সপার্ষদ মহাপ্রভুর ভোগারাধনা, চৌষট্টি মোহান্তের ভোগ, মোহান্ত বিদায় এবং দধিভাণ্ড ভঞ্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত হয়।
উত্তর আধারমানিক শান্তি সমিতির সভাপতি রনজিত বিশ্বাস (অজিত) ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার চৌধুরী জানান, স্থানীয় সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে মহোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব বিশ্বাস (বাবু) ও সাধারণ সম্পাদক সুভাষ রাউতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনদিনব্যাপী এই মহোৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্তের সমাগম ঘটে। এতে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন ও ভক্তিময় পরিবেশ।






















