মার্কিন নৌবহর মোতায়েন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু ও কূটনৈতিক তৎপরতায় বাড়ছে উত্তেজনা; সমঝোতা নাকি সংঘাত—প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলে
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভারসাম্যের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ১০:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ২০০৩ সালের Iraq War-এর পর এই অঞ্চলে এত বড় মার্কিন সামরিক মোতায়েন আর দেখা যায়নি বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি USS Gerald R. Ford বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে এবং আরও বড় নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে। পাশাপাশি আকাশ নজরদারির জন্য ছয়টি Boeing E-3 Sentry মোতায়েন করা হয়েছে, যা দূরপাল্লার রাডার সক্ষমতার মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের মে মাসে Riyadh-এ দেওয়া এক ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর ওপর তাঁর চাপ প্রয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি বৃহৎ আকারের সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী।
অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তেলের দাম বেড়ে গেলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও কর্মসূচিতে চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের Supreme Court of the United States জরুরি আইন ব্যবহার করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ট্রাম্পের উদ্যোগকে অবৈধ ঘোষণা করায় তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে।
তবে কৌশলগত বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে নিতে প্ররোচিত করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ দুর্বল হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে ইরানও অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপে রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর রাজনৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আদর্শিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে ওয়াশিংটনের কাছে নতি স্বীকার করলে তা অভ্যন্তরীণ সমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও নড়াচড়া রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছেন, আলোচনার লক্ষ্য শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নয়; বরং পারমাণবিক কর্মসূচি যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকে, সেটিই মূল উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রও সীমিত ও প্রতীকী মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের সুযোগ রেখে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সামরিক কৌশল দুটি হতে পারে—প্রথমত, সীমিত হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা; দ্বিতীয়ত, তা বিস্তৃত হয়ে শাসন পরিবর্তনের অভিযানে রূপ নেওয়া। তবে দ্বিতীয় পথ দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত সংঘাত ডেকে আনতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে যায়নি। বরং কৌশলগত চাপ ও কূটনৈতিক দরকষাকষির মাধ্যমে সমঝোতার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভুল হিসাব বা হঠাৎ উত্তেজনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এ আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।






















