শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার পর টিটিপি ও আইএসের আস্তানায় ‘নির্ভুল অভিযান’ দাবি ইসলামাবাদের
পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা, ড্রোন হামলা দুই প্রদেশে
- আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তান আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ঘটনার জেরে এই ‘নির্ভুল অভিযান’ পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-এর একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে একটি আফগান সূত্র জানায়, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তবর্তী পাকতিকা প্রদেশ ও নানগারহার প্রদেশ-এ হামলা চালানো হয়। সূত্রটির দাবি, পাকতিকা প্রদেশের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ড্রোন হামলা হয়েছে।
ইসলামাবাদ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ, বাজাউর জেলা ও বান্নু জেলা-এ সংঘটিত হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে। আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনগুলো যাতে পাকিস্তানে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে কাবুল প্রশাসনকে একাধিকবার আহ্বান জানানো হলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে পাকিস্তান।
খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিমান হামলা চালানো হয়। এর আগে বাজাউর এলাকায় আরেক আত্মঘাতী হামলায় ১১ সেনা সদস্য ও এক শিশু নিহত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ মুসল্লি নিহত এবং প্রায় ১৭০ জন আহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট।
পাকিস্তান সরকার বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এ ধরনের সামরিক অভিযান দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।






















