অভিযুক্তদের বক্তব্য না পাওয়া গেলেও প্রশাসনিক তদন্তের আশ্বাস
সাপাহারে বিএমডিএ জোনে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ, গণকূপ পুনঃখননে ঘুষ দাবির বিস্ফোরক তথ্য
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি |
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর সাপাহার জোনকে ঘিরে জিম্মি করে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই জোনটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সাপাহার জোনের পরিদর্শক আব্দুর রব ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী খোশ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ধামইরহাট জোনের সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অন্নাদুজ্জামান সাপাহার ও পোরশা জোনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনিও এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর পরিদর্শক আব্দুর রবের সঙ্গে সমন্বয় করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
২০২৫ সালের ৩ জুন একটি গণকূপ পুনঃখননের জন্য সরকারি রশিদের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জমা নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই প্রকল্পে অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা জমাদানকারী অপারেটর রায়পুর গ্রামের মো. নুরুন্নবী জানান, ঘুষ না দেওয়ায় তার সঙ্গে অসহযোগিতা করা হয় এবং গত বছর তার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নওগাঁ রিজিয়ন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শাহ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে না গিয়ে সাপাহার জোন অফিসে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। এরপর সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেন না। তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম মৃত্যুর আগে সহকর্মীদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রধান কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়ন ও নির্মাণ-ডিজাইন অনুবিভাগ) ড. মো. আবুল কাসেম এক সভায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদেরও প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।






















