মোবাইলে ডেকে নিয়ে হামলা, গুরুতর আহত ট্রাকচালক হাসপাতালে
বাগমারায় মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ট্রাকচালক বাবাকে হাতুড়ি-ইট দিয়ে হামলা, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনতাই অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

মো: গোলাম কিবরিয়া |
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ট্রাকচালক এক পিতাকে হাতুড়ি ও ইট দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ট্রাকচালক রয়েল বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, একই গ্রামের মনিরের ছেলে জিদ (১৮) দীর্ঘদিন ধরে রয়েলের স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি জিদের পরিবারের কাছে জানানো হলে উল্টো হুমকি ও অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একপর্যায়ে জিদ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে পুনরায় গ্রামে ফিরে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, জিদের সহযোগী মৃত আফসারের ছেলে টিকলু (২৮) রয়েল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুৎসা রটাতে থাকে। প্রতিবাদ করলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ট্রাকচালক হওয়ায় রয়েল প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন।
সেই সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়িতে গিয়ে দরজা-জানালায় ধাক্কাধাক্কি ও মোবাইল ফোনে বিরক্ত করত। উত্যক্তের একাধিক স্ক্রিনশট সংরক্ষণে রয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে কথা আছে বলে ডেকে নিয়ে রয়েলের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জিদ ও তার সহযোগীরা হাতুড়ি ও ইট দিয়ে রয়েলের মাথা ও কাঁধে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় মহাজনের ট্রাকের টায়ার কেনার জন্য রাখা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ভাড়ার আরও ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
প্রত্যক্ষদর্শী তহুরা, ফরিদা ও আলিয়া তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় রয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযুক্ত জিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্যক্তের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “আগে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল, এখন নেই। আমার মাকে গালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে।”
এ বিষয়ে বাগমারা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী রয়েল জানিয়েছেন, চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।






















