চেয়ারম্যান-সচিবের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, তদন্ত দাবি
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গোপন নিয়োগ কেলেঙ্কারি: বিধি লঙ্ঘন করে ৬০ জনের চাকরি, কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন |
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে প্রায় ৬০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডে লেবার) কর্মীকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ছাড়পত্র ছাড়াই এবং কোনো প্রকার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল মামলা নং ৩০০/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান এবং দৈনিক মজুরদের বয়স শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ।
এছাড়া বোর্ডের নিজস্ব প্রবিধান ‘এস আর ৬৫’-এর ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সিলেকশন কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলেও এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের না জানিয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবের কক্ষে বসেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আখম মোফাকখারুল ইসলাম এবং সচিব প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন। প্রেষণে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা, কলেজ পরিদর্শক, স্কুল পরিদর্শক ও উপ-পরিচালক (ডিডি) এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রমতে, ‘মামুন’ নামের এক দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। তার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন এবং বোর্ড সভার রেজুলেশন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগপত্রে ৭৪৯ ও ৭৫০ নম্বর স্মারক ব্যবহার করা হলেও বোর্ডের মূল ডিসপ্যাচ রেজিস্টারে তার কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। এতে করে আইনি জটিলতা এড়াতে এবং তথ্য গোপন রাখতে কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে।
বোর্ডের অভ্যন্তরে গুঞ্জন রয়েছে, এই ৬০ জনের নিয়োগের বিপরীতে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বিগত সরকারের আমলে দৈনিক মজুর হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট বিদায়ের পর বোর্ডে সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতাবলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারেন এবং বোর্ড সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে তা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগকারীরা সুবিধা করতে না পেরে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আখম মোফাকখারুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লেনদেনের অভিযোগে অভিযুক্ত ডে লেবার মামুন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।






















