নির্বাচনের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড়
রাজশাহী-৬ আসনে বিজয়ী আবু সাঈদ চাঁদকে ফুলের মালা পরালেন পরাজিত প্রার্থী নাজমুল হক
- আপডেট সময় : ০১:০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

মো: গোলাম কিবরিয়া |
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক। নির্বাচনের পর এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আবু সাঈদ চাঁদ সলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামে নাজমুল হকের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় উভয় নেতার মধ্যে আন্তরিক আলাপচারিতা হয়।
‘ছোট ভাই নাজমুলের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ’ শিরোনামে আবু সাঈদ চাঁদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পরাজিত প্রার্থী হাসিমুখে বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দৃশ্য ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
রহিদুল ইসলাম নাহিদ নামে এক মন্তব্যকারী লেখেন, রাজনীতিতে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক এবং গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই। ফলাফল ঘোষণার পর হিংসা-বিদ্বেষে না জড়িয়ে পরস্পরকে সম্মান জানানোর মধ্যেই প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিহিত।
শামসুদ্দিন রিন্টু মন্তব্য করেন, এমন দৃশ্য রাজনীতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এবং এটি অন্য নেতাদের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ।
শাহিদুল ইসলাম সজিব বলেন, এ ধরনের সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বাঘা-চারঘাট এলাকার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, আবু সাঈদ চাঁদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে ৫৫ হাজার ৭০৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ নাজমুল হক পান ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল) পান ১ হাজার ৬২৮ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুস সালাম সুরুজ (হাতপাখা) পান ২ হাজার ৯৩০ ভোট। নির্ধারিত ভোটসংখ্যা না পাওয়ায় তারা জামানত হারান।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৯টি—বাঘায় ৬১টি ও চারঘাটে ৫৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন; এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৬ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১ জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে এবং স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।






















