সিদ্ধান্তহীন ভোটার, শেষ মুহূর্তে বাড়ছে কৌতূহল
ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পটিয়ার সংসদ নির্বাচন: কে জিতবে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা না মোমবাতি?
- আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

ফারুকুর রহমান বিনজু |
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের মাঠ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও মোমবাতি—এই তিন প্রতীকের প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পটিয়ার গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার ও অলিগলি।
“ভোট দিব কি-সে, ধা-নের শীষে”—এমন শ্লোগানের পাশাপাশি “মার্কা আছে কি-না, আছে—কোন সে মার্কা, দাঁড়ি পাল্লা” কিংবা “তোমার আমার প্রতীক কি—মোমবাতি ছাড়া আর কি”—এ ধরনের প্রচারণামূলক স্লোগানে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
ইসি’র নির্দেশনায় পোস্টার ও ফেস্টুন না থাকলেও প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। চায়ের দোকান, ক্লাব ও হোটেলের আড্ডায় এখন একটাই আলোচনা—কে জিতবে পটিয়ার নির্বাচনে?
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, বিএনপির ধানের শীষ শতভাগ জয় নিশ্চিত। আবার অনেকে বলছেন, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার ভোটব্যাংক দিন দিন শক্তিশালী হওয়ায় তারাই বিজয়ী হতে পারে।
অন্যদিকে কেউ কেউ দাবি করছেন, নৌকার ভোটের বড় একটি অংশ মোমবাতি প্রতীকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থীও চমক দেখাতে পারেন।
বর্তমান পটিয়া সংসদ নির্বাচনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বাস্তব লড়াই গড়ে উঠেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি ফ্রন্টের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও জামায়াত ও ইসলামি ফ্রন্টকে হালকাভাবে নিলে বড় ভুল হতে পারে। কারণ দুটি দলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।
প্রচারণায় একদল বলছেন, ধর্মের নামে প্রতারণা থেকে বাঁচতে ধানের শীষে ভোট দিন। অন্যরা বলছেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তি পেতে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। আবার কেউ দাবি করছেন, সুন্নিয়তের রাষ্ট্র গঠনে মোমবাতিতে ভোট দেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে পটিয়ার ভোটাররা এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই বলছেন, ব্যালট পেপার চোখের সামনে আসার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী বল কার জালে ঢোকে, সেটিই এখন পটিয়াবাসীর সবচেয়ে বড় কৌতূহল।






















