৯৩৪ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, ৮৪৮টিতে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: কুমিল্লার ১১ আসনের ৯৩৪ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায়
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়।
বিগত স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার জেলার মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৩৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৫২৮টিতে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল। অবশিষ্ট ৮৪৮টি ভোটকেন্দ্রে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।
বিশেষ করে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের শতভাগ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এসব কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে কুমিল্লার মেঘনা ও দেবিদ্বার উপজেলায় ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা, ভাওরখোলা ও মানিকারচর ইউনিয়নে সংঘর্ষে প্রাণহানিসহ বহু মানুষ আহত হন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই এলাকাগুলোর অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলায় ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে, যা ভোটের মাঠকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শতভাগ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার নুরুল আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ১৫৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে মুরাদনগর উপজেলায়, যার সবকটিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। এছাড়া দাউদকান্দি, নাঙ্গলকোট, লালমাই, বুড়িচং, মনোহরগঞ্জসহ জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
মেঘনা উপজেলার নদীবেষ্টিত চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, “বিগত নির্বাচনের সহিংসতা মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”






















