১১ দলীয় ঐক্য জোটের নোয়াখালী জনসভায় উন্নয়ন ও ইনসাফের রাজনীতির প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের
নোয়াখালী জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশ নেই যেখানে নোয়াখালীর মানুষ নেই
- আপডেট সময় : ০৬:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

মু. অলি উল্লাহ ইয়াছিন |
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালীঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জননেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশ নেই যেখানে নোয়াখালীর মানুষ নেই। নোয়াখালীর মানুষ কর্ম, শিক্ষা ও ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরেছে।

আজ সকাল ৯টায় ১১ দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নোয়াখালীর আলেম-ওলামাগণ দ্বীনি ইলমের খেদমত কেবল এ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গেলে জানা যায়—সেখানকার মানুষের পূর্বপুরুষদের দ্বীনি শিক্ষা দিয়েছেন নোয়াখালীর আলেম সমাজ।
তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছে, তাদের হাতেই দেশ নিরাপদ। মানুষ তা বুঝতে পেরেছে বলেই সারা বাংলায় ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যুবসমাজ ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। তারা বুঝে গেছে—জুলাই চেতনার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে কারা সক্ষম।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দরদের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
পে কমিশনের মাধ্যমে এমন সুপারিশ দেওয়া হবে, যাতে একজন সরকারি কর্মচারীকে দ্বিতীয় কোনো রুজির সন্ধান করতে না হয় এবং দুর্নীতির পথে যেতে না হয়। এরপরও কেউ সততার পথ ছেড়ে দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এরা সমাজসেবক ও খোদাভীরু মানুষ। যাদের যে প্রতীক দেওয়া হয়েছে সেটিই ১১ দলের প্রতীক। কোনো মান-অভিমান থাকলে তা ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভোট আদায় করতে হবে।
নোয়াখালীর উন্নয়নে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন, হাতিয়া-কোম্পানীগঞ্জ-সুবর্ণচরে নদী ভাঙন রোধ, কোম্পানীগঞ্জ-ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে।
সুবর্ণচরের এক নির্যাতিতা মায়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে যাকে নির্যাতন করা হয়েছিল, তার সম্মানে সুবর্ণচরকে পৌরসভা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ তারিখ দুটি ভোট হবে—একটি সংস্কার ও আজাদীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট, অন্যটি ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে।
জনসভায় বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার।






















