রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলি হলেও বহাল শ্রমিক লীগ নেতা, উঠছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন
বদলির আদেশ অকার্যকর! বিএডিসিতে হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক দাপট অটুট
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন | রাজশাহী ব্যুরোঃ
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর সাম্প্রতিক এক বদলি আদেশ এখন আর কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি কর্পোরেশনের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক প্রভাব, শ্রমিক রাজনীতি ও ক্ষমতার বলয়ের বাস্তব চিত্র সামনে এনেছে। রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলি হওয়া সত্ত্বেও মো. হারুন অর রশিদ যেভাবে বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—এটি শুধু বদলির গল্প নয়, এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাপটের প্রতিফলন।

বিএডিসির সংস্থাপন বিভাগ থেকে জারিকৃত অফিস আদেশে সীড টেস্টার পদে কর্মরত মো. হারুন অর রশিদকে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি রাজশাহী থেকে একই পদে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি বগুড়ায় বদলি করা হয়।
আদেশে তাৎক্ষণিক কার্যকর বলেও উল্লেখ করা হয়।তবে আদেশ জারির পরও তিনি রাজশাহীতেই থেকে যান এবং বিএডিসি শ্রমিক-কর্মচারী লীগ (সিবিএ)-এর রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব বহাল রাখেন।
বিএডিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক অফিস সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, হারুন অর রশিদের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মাঠপর্যায়ের শক্ত অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়।
সূত্রগুলোর মতে, তিনি শুধু একজন কর্মকর্তা নন; বরং রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক রাজনীতির এমন এক কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
একজন দায়িত্বশীল অফিস কর্মকর্তা বলেন, “বদলি কাগজে হয়, কিন্তু ক্ষমতা মাঠে—হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে সেটাই বাস্তবতা।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
একাধিক সূত্র জানায়, জাতীয় শ্রমিক লীগের বিভিন্ন মিছিল, সভা ও সমাবেশে তাঁকে নিয়মিত সামনের সারিতে দেখা যেত। এই দৃশ্যমান রাজনৈতিক উপস্থিতি তাঁকে শাসকদলের শ্রমিক রাজনীতির একজন প্রভাবশালী মুখে পরিণত করে, যার প্রভাব এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একজন শ্রমিক সংগঠক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় শ্রমিক লীগের বড় কর্মসূচিতে হারুন অর রশিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।”
আরেকটি সূত্র আরও বলেন, “এই রাজনৈতিক পরিচয়ই বদলির পরও তাঁকে সাংগঠনিকভাবে অক্ষত রেখেছে।”
সূত্রগুলো আরও জানায়, রাজশাহী জেলা শাখায় তাঁর বিকল্প নেতৃত্ব এখনো গড়ে না ওঠায় তাঁকে সরানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অনীহা কাজ করেছে।
কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব এবং অতীতের রাজনৈতিক সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে তাঁকে বাদ দিয়ে সংগঠন পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।এ সময় উপপরিচালকের দায়িত্বে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি কার্যত বহাল ছিলেন। জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি রাজশাহীতে কর্মরত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম। তবে কোনো অন্যায় কাজে জড়িত ছিলাম না।”
এদিকে, বিএডিসি রাজশাহীর উপপরিচালক (পাটবীজ) এইচ এস জাহিদুল ফেরদৌসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।






















