বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থনের অভিযোগে সাংগঠনিক কঠোরতা, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা বিএনপির
কিশোরগঞ্জে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বিএনপির আরও ১৭ নেতা বহিষ্কার
- আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির আরও ১৭ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বহিষ্কৃত নেতাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ বাতিল করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে দ্বিতীয় দফায় বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
তবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইকবালের পরিবর্তে তাকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। গত ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সৈয়দ এহসানুল হুদার আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হয়।
এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন এবং মাঠে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কোনো নেতা-কর্মী বহিষ্কৃত বা বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিলে বিএনপি ভবিষ্যতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।






















