নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে যশোরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা
প্রশ্নবিদ্ধ রাজনীতি: যশোরে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে মধ্যরাতে মাদ্রাসা ছাত্র দিয়ে প্রচারণার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

আব্দুল্লাহ আল মামুন |
যশোর প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় বিএনপির এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে গভীর রাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে যশোর–সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর বাজারের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি ভ্যানগাড়ির পেছনে পেছনে দৌড়ে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের ফেস্টুন টানাতে দেখা যায় একদল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে।
তীব্র শীত উপেক্ষা করে মাথায় টুপি ও গায়ে লম্বা পাঞ্জাবি পরিহিত এসব শিক্ষার্থী দলবদ্ধভাবে প্রচারণা চালায়।
পরদিন অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মাদানী নগর মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মা. রশীদ আহমেদ ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকাণ্ড নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি, শিক্ষানীতি ও মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
সংগৃহীত দুটি ভিডিও ফুটেজে গরুহাট মোড়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীদের ভ্যানগাড়িতে করে ফেস্টুন টানাতে দেখা যায়। কথা বললে তারা নিজেদের কেশবপুরের বেগমপুর ও সুন্দলপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ৪–৫ জন মিলে একটি টিম করে পুরো মণিরামপুর এলাকায় কাজ করছেন। প্রথমে মাদ্রাসার নাম বলতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে তারা স্বীকার করেন যে, তারা মাদানী নগর মাদ্রাসার ছাত্র এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ায় হুজুর মাওলানা রশীদ আহমেদের নির্দেশে এই কাজ করছেন।
এ ঘটনায় প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ও নিন্দনীয়। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
মাদানী নগর মাদ্রাসার এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অগ্রিম মাসিক বেতন দিয়ে সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য পাঠাই। কোনোভাবেই তাদের রাজনৈতিক পোস্টার বা ফেস্টুন টানানোর কাজে ব্যবহারের জন্য নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মা. রশীদ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তার হিসাবরক্ষক মো. আজহারুল জানান, বিষয়টি তিনি হুজুরকে জানাবেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানান রিটার্নিং অফিসার মো. সম্রাট হোসেন।






















