সরকারি মূল্য ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় লোকসানে আলুচাষিরা
আলু বিক্রি করেও হিমাগারের ভাড়া উঠছে না, রাজশাহীর কৃষকরা চরম সংকটে
- আপডেট সময় : ০৭:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

মো: গোলাম কিবরিয়া | রাজশাহী প্রতিনিধি:
আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর কৃষকরা। মৌসুমে আলুর দাম এতটাই কম ছিল যে অনেক চাষির উৎপাদন খরচও উঠেনি।
লোকসান এড়ানোর আশায় বহু কৃষক আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করলেও এখন সেই আলু বিক্রি করেও হিমাগারের ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে পারছেন না। উল্টো ঘর থেকে টাকা এনে দিতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার হিমাগার পর্যায়ে আলুর কেজি ২২ টাকা মূল্য ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে চলতি মৌসুমের চাষাবাদেও।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২৮০ হেক্টরে।
অর্থাৎ প্রায় ৪ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। জেলার সবচেয়ে বেশি ও উন্নতমানের আলু উৎপাদনকারী উপজেলা তানোরেও চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।গত বছর তানোরে ১৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এবার হয়েছে ১২ হাজার ২৬৫ হেক্টরে।
তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের আলুচাষি মো. মইদুল ইসলাম জানান, তিনি হিমাগারে ১২১ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলেন। সেই আলু বিক্রি করেও হিমাগারের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাকে ঘর থেকে ১৬ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে।
চাষিরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তারা।দ্রুত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে দেশের আলু উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















