ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পর বিজিবির পোশাকে দেশের সীমান্তে দাঁড়ানোর শপথ আরফান হোসেনের
জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করবো—বিজিবিতে যোগ দিয়েই বললো ফেলানীর ছোট ভাই
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের অধিকাংশ অঞ্চল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা। এই সীমান্তেই ২০১১ সালে নির্মমভাবে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর তার ছোট ভাই আরফান হোসেন দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়ে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সূচনা করলেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের সঙ্গে শপথগ্রহণ করেন আরফান হোসেন।
শপথ গ্রহণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করে আরফান হোসেন বলেন, “২০১১ সালে আমার বয়স ছিল মাত্র ৬–৭ বছর। আমার বড় বোন ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সেই নির্মম ঘটনা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিই, জীবন দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করবো।”
তিনি আরও জানান, তার বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল সন্তান যেন দেশের জন্য কাজ করে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করেন তিনি।
আরফান হোসেন কুড়িগ্রামের নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ২০২২ সালে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০২৪ সালে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে অবশেষে বিজিবির একজন নবীন সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ফেলানী খাতুন। ঘটনার পর তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার ছবি দেশ-বিদেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই শহীদের ছোট ভাই আজ দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখলেন।






















