পরীক্ষার ফল ঘোষণার আগমুহূর্তে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে ছাত্রীকে স্কুল সেরা করার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ
যশোরের মণিরামপুরে মেধা তালিকায় ভয়াবহ কারচুপি: প্রধান শিক্ষক ও বহিরাগত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর রোল পরিবর্তনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মধুপুর বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও মেধা তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোহসীন হোসেন এবং এক বহিরাগত শিক্ষক মোঃ মোস্তাক হোসেনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মেধাক্রম পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক পরীক্ষায় স্পষ্ট ব্যবধানে প্রথম স্থান অর্জন করে শিক্ষার্থী ইতু পাল। কিন্তু ফল প্রকাশের আগমুহূর্তে কৌশলে তাকে মেধা তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ছাত্রী সাইমা ইসলামকে ১ নম্বর রোল দিয়ে স্কুল সেরা ঘোষণা করা হয়।
সূত্র জানায়, ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পরও প্রধান শিক্ষক পাশের জয়পুর মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ মোস্তাক হোসেনকে ডেকে এনে গোপনে সাইমা ইসলামের উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করান। এতে নম্বর বাড়িয়ে তাকে ইতু পালের উপরে দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইতু পালের অভিভাবকরা বলেন,
“আমার সন্তান নিজের মেধা ও পরিশ্রমে প্রথম হয়েছিল। যদি শিক্ষকরা স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মেধা পরিবর্তন করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনাকে চরম অনৈতিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভয়ংকর নজির হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ইতু পালের প্রকৃত মেধাক্রম পুনর্বহালসহ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক মোঃ মোস্তাক হোসেন নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোহসীন হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দিয়ে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।






















