রাজশাহীতে সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ী পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ
গোদাগাড়ীতে জমি দখলের অভিযোগ: সাংবাদিক পরিচয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসায়ী পরিবার
- আপডেট সময় : ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে একটি ব্যবসায়ী পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর অনুরাগ কমিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং একজন ভাটা ব্যবসায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে আরমিনা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর চাচা শ্বশুর সাইফুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সাইফুল ইসলামের বাড়ি সংলগ্ন চার কাঠা জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন আবুল কালাম। জমি বুঝে নেওয়ার সময় বিরোধের সৃষ্টি হলে সাইফুল ইসলাম আবুল কালামের ওপর শারীরিক হামলা চালান।
এতে গুরুতর আহত হয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এ ঘটনায় ৯ ডিসেম্বর ২০২২ সালের ঘটনার সূত্র ধরে ২১ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী থানায় আবুল কালামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–৩১/৬৩৯), যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি পরিবারের।
এছাড়া একই দিনে আবুল কালামের মাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী বেলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–সি আর ০১/২০২৩)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
পরিবারটির দাবি, থানায় সহায়তা চাইলে আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বরং উল্টো চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি থানার গেটেই সাংবাদিক পরিচয়ে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জানিয়ে তারা সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কখনো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেননি। বরং আবুল কালাম একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং তার বিরুদ্ধে তার কাছে তথ্য রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান বাশির জানান, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। ভুক্তভোগী চাইলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















