চারশ’ বছরের পুরোনো ভবনের ছাদ ধসে ঢামেকে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা
সোনারগাঁয়ে প্রায় ৪শ’ বছরের পুরোনো ভবনের ছাদ ধসে বৃদ্ধা নারী গুরুতর আহত
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ সজিব মিয়া | নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিশেষ খানা গ্রামে প্রায় চারশ’ বছরের পুরোনো একটি ভবনের দোতলার ছাদ ধসে আক্তার বানু (৬০ ঊর্ধ্ব) নামে এক বৃদ্ধা নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৫ জানুয়ারি) মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত আক্তার বানুকে তাৎক্ষণিকভাবে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নারীর ভাতিজা নয়ন জানান, মধ্যরাতে ভবন ধসে পড়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আক্তার বানুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত নারীর নাতি আরাফাত জানান, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ভবনের লোহা বা রড খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে এমন চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাইরে বের হন।
চোরদের ধরতে না পেরে কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে যান। এর কিছু সময় পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ দোতলার ছাদ ধসে পড়ে। এতে তার দাদি আক্তার বানু মারাত্মকভাবে আহত হন।
আরাফাতের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চোরচক্র ওই ভবনসহ আশপাশের পুরোনো ভবনগুলো থেকে লোহা ও রড খুলে নিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার দিবাগত রাতেও চোরেরা ভবনে প্রবেশ করে রড খুলতে চেষ্টা করে। তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার মাত্র ১০ মিনিট পরই ভবনের ছাদ ধসে পড়ে।
ভবনে বসবাসকারী অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু বিপথগামী যুবক মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায় তিনশ’ বছরের পুরোনো এসব ভবন থেকে নিয়মিত লোহা ও রড খুলে নিচ্ছে। ফলে ভবনগুলো দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এক যুগেরও বেশি সময় আগে উপজেলা প্রশাসন এসব ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সতর্ক করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ভবনে নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত একাধিক পরিবার বসবাস করছে। পাশাপাশি সেখানে একটি সরকারি ইউনিয়ন ভূমি অফিসও অবস্থিত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও চাকরি করলেও প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মচারীরা।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার অথবা নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন।






















