টাকা না দিলে আ’লীগ ট্যাগে গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
গোদাগাড়ী থানার এএসআই ফজলুরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, আ’লীগ ট্যাগে গ্রেপ্তার আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলার তদন্তে টাকা ছাড়া এক পা-ও নড়েন না তিনি—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের ভয় দেখান এএসআই ফজলু। এমনকি কেউ টাকা দিতে না পারলে ৩০ টাকার মতো সামান্য অঙ্কও ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সেবা নয়, অর্থই যেন তাঁর কাছে মুখ্য—এমন মন্তব্য করেন তারা।
গোদাগাড়ী ১ নম্বর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র শেওলা গ্রামের বাদশা থানায় অভিযোগ করেন শফিকুলের বিরুদ্ধে। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে মীমাংসা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এএসআই ফজলু গত ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে শফিকুলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নেন।
একই ইউনিয়নের রাতাহারী এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে আব্দুল খালেকের কাছ থেকে গত ১৬ নভেম্বর ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০ হাজার টাকার পাওনা আদায়ে ১৫ হাজার টাকা আদায় হয়, যার মধ্যে ২ হাজার টাকা নেন এএসআই ফজলু এবং বাদি পান ১৩ হাজার টাকা।
চলতি বছরের ১৫ জুন মারামারির ঘটনায় জিডিকে কেন্দ্র করে আজাদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকেও ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রাতাহারী গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আব্দুল খালেক জানান, পারিবারিক কলহের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে তদন্তে এসে এএসআই ফজলু ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন।
রাতাহারী দিঘিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সেলিম বাড়িতে বসে তালের রস পান করার সময় হঠাৎ এএসআই ফজলু তাকে আটক করেন এবং পরে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিষয়টি রফাদফা করা হয় বলে অভিযোগ।
উপজেলার মিরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ছাগলের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় অভিযোগের পর এএসআই ফজলু প্রথম কিস্তিতে ৫ হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা নেন।
জলাহার গ্রামের বাসিন্দা শারিফ উদ্দিন বলেন, এএসআই ফজলু তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আওয়ামী লীগ অপবাদ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন এবং বারবার বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমান।
একই এলাকার জুলাই যোদ্ধা মুরসালিন ইসলাম বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে পুলিশের ঘুষ গ্রহণ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় লজ্জাজনক। আমি বারবার তাকে সতর্ক করেছি। তারপরও তিনি ঘুষ গ্রহণ করছেন। অবিলম্বে তার প্রত্যাহার দাবি করছি।”
এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে মাসিক মাসোহারা তুলতেন এবং রাজনৈতিক দল দমনের নামে অর্থ আদায় করতেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের ট্যাগ ব্যবহার করে বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি হাসান বাশিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”






















