ক্ষমতার প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে নীতির রাজনীতিতে অনড় অবস্থান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের
সংসদে না থেকেও অদম্য জনপ্রিয়তা: নীতি ও আদর্শে অটল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫১ বার পড়া হয়েছে

এস এম মামুন | যশোর প্রতিনিধি:
সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের রাজনীতিতে যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে, তা অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের জন্যও ঈর্ষণীয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নীতি, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে দলটি দীর্ঘদিন ধরে যে অবস্থান বজায় রেখেছে, সেটিই তাদের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত তথ্যমতে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কোটি টাকা, প্রায় ৩০টি সংসদীয় আসন এবং মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দিয়েও তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আনতে পারেনি। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রায় ৩৫টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সাড়া দেয়নি দলটি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই বরাবরই ক্ষমতার লোভ নয়, বরং নীতির প্রশ্নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছেন।
দলটির রাজনৈতিক স্লোগান— “শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই”—তাদের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামের পক্ষে একটি স্বতন্ত্র প্রতীক ও ব্যালট বাক্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলটি সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ইসলামী রাজনীতিতে ঐক্যের কথা বললেও সুযোগ বুঝে জামায়াতে ইসলামী নানা কৌশলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও পীর সাহেব চরমোনাইকে উপেক্ষা ও কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, ইসলামের পক্ষে সকল শক্তিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টার বিপরীতে নেপথ্যে বিভাজনের রাজনীতি চলছে।
দলীয় নেতারা জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কখনো ক্ষমতার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেয় না। অবৈধ বা অনৈতিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী নয়। ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থাকাই তাদের রাজনৈতিক দর্শন।
তাদের ভাষায়, রাজনীতিতে কী পাওয়া গেল বা গেল না—তার চেয়েও বড় বিষয় হলো মহান বিচার দিবসে আল্লাহর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারা। তারা বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার, কোরআনের আইন বাস্তবায়নের। বাকিটা আল্লাহর ফয়সালা।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নীতিনিষ্ঠ অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।






















