নদীতীরবর্তী হওয়ায় শীতের তীব্রতায় স্থবির জনজীবন, বিপাকে দিনমজুর ও হতদরিদ্ররা
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত দুর্গাপুর: নদীতীরবর্তী মানুষের চরম দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

আশিকুজ্জামান রানা | লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে তীব্র শীতের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গিরিধারি নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই এই এলাকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। চলতি মৌসুমে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশা জনজীবন কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নদী থেকে আসা উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে দুর্গাপুরে তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার তুলনায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম অনুভূত হয়। অনেকদিন সূর্যের দেখা না পাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে চলাচল ও কাজকর্মে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে ভোরে মাঠে কাজ করতে না পারায় দিনমজুরদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। তামাক ও বোরো ধানের চারা রোপণের সময় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।
দুর্গাপুরের চরাঞ্চল ও গ্রামগুলোতে বসবাসরত হতদরিদ্র মানুষের অনেকেরই শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই। বাধ্য হয়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে, যা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশু ও বয়স্করা। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও কোল্ড অ্যাজমার মতো রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দূরত্বের কারণে অনেক সময় জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর দুর্ভোগও চরমে। গোখাদ্যের সংকট ও ঠান্ডাজনিত রোগে অনেক পশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যা কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গাপুরের মানুষের জন্য শীত শুধু একটি ঋতু নয়, বরং একটি বড় সংগ্রাম। দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।






















