তীব্র শীতে কৃষি শ্রমিক সংকট, ঝুঁকিতে ভুট্টা–আলু–তামাক চাষ
কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় ফসল বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে আদিতমারীর কৃষকেরা
- আপডেট সময় : ০৬:১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে কনকনে ঠান্ডা, শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাস আর তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কৃষকেরা।
উপজেলার ভেলাবাড়ি, দুর্গাপুর, মোগলহাট, লোহাকুচি, বলাইহাট, মহিষতুলি ও শঠিবাড়ীসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা, মালদহ ও রত্নাই নদীর তীরবর্তী গ্রাম এবং দুর্গম চরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা। অনেকেরই শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য না থাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষতুলি গ্রামের কৃষক চক্রধর বর্মন (৬৫) জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে অধিকাংশ কৃষি শ্রমিক মাঠে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। অথচ এই সময়ে ভুট্টা, আলু ও তামাক খেতের পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার মধ্যেও আমাদের নিজেকেই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। আমরা ফসল না ফলালে দেশের মানুষ খাবে কী?”
একইভাবে আমতলা গ্রামের কৃষক বিমল চন্দ্র (৩২) বলেন, “হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কৃষি শ্রমিক না পাওয়ায় জ্যাকেট ও মাফলার পরে নিজেকেই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আমরা কাজ করি—না করলে দেশের মানুষের খাদ্য জোগাবে কে?”
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফারুক হোসেন বলেন, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে যদি কৃষকরা নিয়মিত মাঠে কাজ না করতে পারেন, তবে ফসলের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকদিন তীব্র শীত অব্যাহত থাকলে কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।






















