কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও চরাঞ্চলের মানুষ শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগে, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কুড়িগ্রামে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত, বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা
- আপডেট সময় : ০১:৫২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

মশিউর রহমান বিপুল | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। টানা চার দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা আরও কমে শৈত্যপ্রবাহের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। মঙ্গলবার ও বুধবার যথাক্রমে ১২ ও ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পুরো জেলা ঢেকে রাখে। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে সড়কে মানুষের চলাচল কমে গেছে। বিশেষত দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
শীতের কারণে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে।
চরাঞ্চলের মানুষের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। খোলা পরিবেশে বসবাসকারীরা হিমেল বাতাসে রাতে ঘুমাতে পারছেন না। চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন চরে বৃদ্ধ ও শিশুরা চরম কষ্টে রয়েছে। সরকারিভাবে পাওয়া ১৮০টি কম্বল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতকালে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি ২৯৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শীতজনিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলায় ৯ উপজেলার শীতার্ত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২২ হাজার কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।






















